গ্রামের ভরদুপুরে আইসক্রিমওয়ালার সেই টিং টিং শব্দ আর রঙিন বরফ।

তা খাওয়ার একটা নিজস্ব কায়দা ছিল। চৈত্র মাসের গরমে আইসক্রিম গলতে শুরু করত খুব দ্রুত। কাঠির গা বেয়ে মিষ্টি ঠান্ডা জল গড়িয়ে পড়ত হাতে। আমরা চেটেপুটে

প্রথম ছবির ক্যাপশন প্রথম ছবির ক্যাপশন প্রথম ছবির ক্যাপশন

আপনার পোস্টের বিস্তারিত লেখা বা ডেসক্রিপশন এখান থেকে শুরু করুন...

ভূমিকা

দুপুরবেলা মায়ের কড়া শাসন ছিল— 'খবরদার, রোদে বাইরে যাবি না!' উঠোনের এক কোণে আমগাছের ছায়াটাও যেন গরমে হাঁপাচ্ছে। এমন একটা নিস্তব্ধ, খাঁ খাঁ দুপুরে হঠাৎ দূর থেকে ভেসে আসত একটা জাদুকরী শব্দ। 'টিং... টিং... টিং...'। ব্যস, মুহূর্তের মধ্যে চোখের ঘুম উধাও। কিসের কড়া শাসন, কিসের রোদ! খালি পায়ে ধুলোমাখা উঠোন পেরিয়ে দৌড়। কারণ ওই শব্দটার মানেই হলো, লাল শালুতে মোড়ানো হাঁড়ি নিয়ে আইসক্রিমওয়ালা দাদু চলে এসেছেন। মেঠোফ্রেমের পাতায় আজ সেই রঙিন বরফের নস্টালজিয়ায় ফিরে যাব আমরা।

হাতে জমানো খুচরো আর চাল চুরির গল্প

মায়ের ড্রাম থেকে এক মুঠো চাল

তখন তো আর সবার পকেটে দশ-বিশ টাকা থাকত না। আইসক্রিমওয়ালা এলে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হতো— টাকা পাব কই? উপায় একটা ছিল। মা যখন দুপুরের ঘুমে আচ্ছন্ন, চুপিচুপি রান্নাঘরে ঢুকে চালের ড্রাম থেকে এক বা দুই মুঠো চাল চুরি করে পকেটে পোরা। সেই চাল নিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে ছুটে যেতাম গ্রামের কাঁচা রাস্তাটার মোড়ে। আইসক্রিমওয়ালা দাদু এক গাল হেসে চালটা তাঁর টিনের বাক্সে মেপে রাখতেন, আর তার বদলে হাতে ধরিয়ে দিতেন একটা লাল টুকটুকে কাঠি আইসক্রিম। আহা! সেই জয়ের আনন্দ এখনকার দামি রেস্তোরাঁর ডেজার্টেও খুঁজে পাই না।

রঙিন আঙুল আর গলে যাওয়া বরফ

মালাই বরফ হোক বা স্রেফ লাল-নীল রঙের বরফ, তা খাওয়ার একটা নিজস্ব কায়দা ছিল। চৈত্র মাসের গরমে আইসক্রিম গলতে শুরু করত খুব দ্রুত। কাঠির গা বেয়ে মিষ্টি ঠান্ডা জল গড়িয়ে পড়ত হাতে। আমরা চেটেপুটে সেই রসটুকু খেয়ে নিতাম, যেন এক ফোঁটাও নষ্ট না হয়! আইসক্রিম খাওয়া শেষ হলে জিভ আর আঙুল হয়ে যেত গোলাপি বা কমলা। বন্ধুদের জিভ দেখিয়ে পাল্লা দিতাম— কার জিভ কত বেশি লাল হয়েছে! স্কুল ছুটির পর দল বেঁধে এই আইসক্রিম খাওয়ার স্মৃতি আজও মনের ভেতর এক অদ্ভুত শূন্যতা তৈরি করে।

লাল শালুর সেই বাক্সটা আজ কোথায়?

এখন তো গলির মোড়ে মোড়ে সুপারশপ। কাচের ফ্রিজ খুললেই নামিদামি ব্র্যান্ডের আইসক্রিম। কিন্তু সেই টিনের বাক্সে, লাল শালু কাপড়ে ঢাকা হাঁড়ির ভেতর যে অমৃত লুকিয়ে থাকত, তা আজ আর কোথাও মেলে না। সাইকেলের হ্যান্ডেলে বাঁধা সেই পিতলের ঘণ্টার শব্দটাও যেন সময়ের সাথে সাথে কোথায় হারিয়ে গেছে। আধুনিকতার চাকায় পিষ্ট হয়ে গেছে আমাদের সেই সহজ, সরল আনন্দগুলো।

শেষ কথা

মাঝেমধ্যে ভরদুপুরে যখন জানলার ধারে একা বসে থাকি, তখন মনে হয়, এই বুঝি দূর থেকে আবার বেজে উঠবে সেই পরিচিত 'টিং টিং' শব্দ। হয়তো আবার খালি পায়ে ছুটে যাওয়া যাবে সেই ধুলোমাখা শৈশবে। কিন্তু বাস্তবতা বড্ড কঠিন, যেখান থেকে আর ফেরা যায় না।

আচ্ছা, সত্যি করে বলুন তো, আপনারা কে কে এভাবে চালের বিনিময়ে বা বন্ধুদের সাথে পাল্লা দিয়ে আইসক্রিম খেয়েছেন? সেই সময়ের কোন বন্ধুর সাথে এই রঙিন বরফ ভাগ করে খেতেন? কমেন্টে তাকে ট্যাগ করে দিন, দেখি তারও এই স্মৃতি মনে আছে কিনা!

আরও পড়ুন

মন্তব্য নেই
মন্তব্য করুন
comment url